তুমি বোধয় ইচ্ছে করেই

তুমি বোধয় ইচ্ছে করেই


তুমি বোধয় ইচ্ছে করেই এ পথ দিয়ে আর আসো না।
বিকেল বেলায় রোজ বেড়াতে এই পাড়াতে আর আসো না।
স্কুলের মাঠে, নদীর ধারে,
নোনাই কাকার পুকুর পারে
মাচায় বসে পা দোলাতে ক’দিন ধরে আর আসো না;
তুমি কি রোজ বিকেল বেলায় হাঁটতে ভালো আর বাসো না?
জানি আমি, ইচ্ছে করেই এ পথ দিয়ে আর আসো না।

ময়না ঝিলের দু’ধার এখন কলমি শাকে ভরা,
স্কুলের গাছে আমগুলো সব হাত দিয়ে যায় ধরা,
ঝুমকা ফুফুর মেহেদি গাছে
মেহেদি পাতায় ভরেই আছে—
তুমি কি আর ইচ্ছে করেই এসব কিছুর খোঁজ রাখো না?
যাত্রাপালার দল এসেছে, দু’দিন হলো—খোঁজ রাখো না?
দাওয়ায় বসে কাঁচা হলুদ হাতে-মুখে আর মাখো না।
দুপুর বেলায় বারান্দাতে নক্শী কাঁথায় ফুল আঁকো না;
জানি আমি, জানলা খুলে পড়ায় বসে আর থাকো না।
মুচকি হেসে অংক খাতায় পেঁচার ছবি আর আঁকো না।

একটা নূতন শার্ট কিনেছি
দেখতে নাকি বেশ হয়েছে।
গোঁফ আর দাড়ি—সব কেটেছি,
দেখতে নাকি বেশ হয়েছে।
তুমি কেন বিন্তি খালার চুলোর ধারে আর আসো না?
খেলতে লুডু, কুটতে আনাচ এই পাড়াতে আর আসো না?

তোমার জানি কী হয়েছে আমার কিছু ভাল্লাগে না;
জানি আমি, আমায় তোমার একটুখানি ভাল্লাগে না।
তাই তো তুমি ইচ্ছে করেই এ পথ দিয়ে আর আসো না।
কত্তোটা দিন আমায় দেখে দু’ঠোঁট চেপে আর হাসো না।
আর আসো না। আর হাসো না। বলতে পারো?
আমার কেন ভাল্লাগে না? বলতে পারো?