চিংড়ি-ঠ্যাঙের নেমন্তন্ন

চিংড়ি-ঠ্যাঙের নেমন্তন্ন


নীরু, ফেরার পথে আমাদের বাড়ি হয়ে যাস্।
ডুবুতেলে চিংড়ির ঠ্যাঙ্ ভেজে মা
বলে কিনা, “অনাথ ছেলে, বাপ নাই মা নাই;
কী না-কী খায়”। তুই আজ বেলাবেলি আয়।
ফেরার পথে মনে ক’রে নাকরের গোটা পেরে নিস্।
আর দু’টো সুপোড়ির খোল যদি পাস্,
লম্বা ক’টা শোলার কাঠি; না-হয়
দু’টো কড়ইয়ের ডাল আর লাল কলার মোচা
যদি দিস্—আমার পাতের সবখানি দুধ
তোকে দেবো। লুকিয়ে। ভাজা কাঁঠালের
বীচি আর পাকা আমটার অর্ধেকটাও।
বাড়ি নিয়ে পেট ভ’রে খাস্।

বড়ো ঘুড়িটার ল্যাজখানা ছিঁড়ে গেঁথে আছে
ঝাঁড়ের আগায়। দুই হাত কাগজের খুব
দরকার। আরেকটু নাইলন সুতো।
বড়শির ছিপে, জানিস তো, বেশ ক’হাত লাগায়
ঘুড়ির ভাগে টান প’রে গেলো এক চিমটি।
পাড়ার মাঠে আমার টায়ার দৌড়োতে দেবো
এক দুপুর এক বিকেল। এই দ্যাখ বেলা ডুবে এলো।
তুই বরং ফিরে চলে আয়।
আমার মাটির ব্যাংকে যতো টাকা-কড়ি,
আজ থেকে অর্ধেকটুকু তোর। আয় চল্
আমাদের বাড়ি। খেয়ে-নেয়ে দৌড়োবো
তুই গের্হস্থ—আমি সিধকাটা চোর।