এক ফোঁটা নৈসঃঙ্গ এবং এক চিলতে অন্ধকার

এক ফোঁটা নৈসঃঙ্গ এবং এক চিলতে অন্ধকার


নৈঃসঙ্গ এবং অন্ধকার কখনো কখনো কিছু কিছু মানুষের কাছে বড্ড ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্ধকার বীভৎস হয় নৈঃসঙ্গের সঙ্গ পেয়ে; আর নৈঃসঙ্গ মানুষকে বাহির জগৎ থেকে ভেতরের জগতে নিয়ে আসে অন্ধকারের চাদর মুড়ি দিয়ে।

মানুষের ভেতরের জগৎটা বড়ো অন্ধকার। বাইরের আলো সেখানে প্রবেশ করে না। যুগে যুগে কতো মহাপুরুষই না অন্তর্মহলকে আলোকিত করবার উপায় বলে দিয়ে গেছেন; শিখিয়ে দিয়ে গেছেন আলো জ্বালবার নানা পদ্ধতি। কতো মত, তত্ত্ব, দর্শন আর বিশ্বাসের ভারে মহাকাল পড়েছে নুয়ে, সময়ের গতি গেছে বেড়ে; মানুষের চোখে লেগেছে আলোর ধাঁধা, ভেতরটা হয়েছে গাঢ় অন্ধকার। চারপাশে আলো জ্বালবার এতো আয়োজন এতো সমারোহ; তারপরেও আলো নেই। এই আলো জ্বালতে গিয়ে চিরতরে নেই হয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার অমরত্বও লাভ করছে। কিন্তু তবুও, আলো নেই।

আলোকে খুঁজতে যেয়ে তুমি-আমি আজ আমাদের থেকে অনেক দূরে। অথচ আলো যে এতো কাছে, এতো আপনার; ক্ষণিকের তরে দু’চোখ বন্ধ করলেই যে আলোর দেখা পাওয়া যায় সে খবর আমরা কেউ পেলেম না, কেউ দিলে না।
আজ আমি পেয়েছি। সাধনার মন্দিরটিকে ঠিক খুঁজে পেয়েছি।
রাতের আকাশটাকে দ্যাখো— কী রহস্য! অথচ কতো সহজ কতো সরল। সমস্ত আকাশ জুড়ে বিন্দু বিন্দু আলোর স্ফুরন, অন্ধকারের ব্যপ্তিটাই যেন বেশি।
যে ক্ষুদ্র আলোর বিন্দুগুলো মিটমিট করে জ্বলছে সেগুলোও কেমন একা একা। কারো সঙ্গে কারো কোনো যোগ নেই। নৈঃসঙ্গ আকাশ জুড়ে, অন্ধকারের যেন মহাসমুদ্র।

বিজয় একাত্তর হলের ছয় তলায় ছোট্ট অন্ধকার নির্জন কক্ষে জানলার পাশে শুয়ে অথবা বেলকুনিতে কাঠের চেয়ারটায় বসে ভাবনার দ্বার যখন এই ভাবে গেলো খুলে তখন অকস্মাৎ খুঁজে পাওয়া আমার সাধনার আলোক মন্দিরটির পথ না হয় তোমায় বলেই দিলেম—
আলোর খোঁজ যদি পেতেই চাও বন্ধু, তবে অন্ধকারে হাঁটো; অন্ধকারকে দ্যাখো। একা নয়—
একাকীত্বের সঙ্গে। নৈঃসঙ্গ বড়ো মধুময়, আঁধার বড়ো সুন্দর।

আড়াল হবার সুযোগ মিলেছে। বাড়ি যাচ্ছি কাল। অনেক দিন পর। ভালো থাকবো নিশ্চয়, ভালো থেকো তুমিও।
আঁধারেরা ভালো থাকুক …